১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ ■ ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোলায় বিএনপি-বিজেপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ।। পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত প্রায় অর্ধশত

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

আরিয়ান আরিফ,অমৃতালোক :

ভোলায় বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে শহরের নতুন বাজার এলাকায় জেলা বিজেপি কার্যালয়ের সামনে ও পাশে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকে ভোলা জেলা বিএনপি ও জাতীয় পার্টির (বিজেপি) অফিসের সামনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চলছিল। দুপুর ১২টার দিকে বিজেপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নতুন বাজারের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সদর রোড হয়ে চকবাজার ঘুরে আবার কার্যালয়ের সামনে এসে সমাবেশ করেন। অন্যদিকে মহাজনপট্টিতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শেষে একদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে বের হন। পরে নতুন বাজার পৌর ভবনের সামনে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। সংঘর্ষে ভোলা সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আউয়াল, নিউজ২৪-এর ক্যামেরাপারসন রানা ইসলাম, বাংলাবাজার পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শাহরিয়ার ঝিলনসহ আহত হয় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। আহতরা ভোলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে দুপুর ২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম জানান, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের হ্যাঁ/না ভোটের দাবিসহ নির্বাচনে বিলম্ব ঘটানোর প্রতিবাদে আমরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিলাম। বিজেপির মিছিল শেষে আমাদের মিছিল শুরু হয়। নতুনবাজার এলাকায় মুখোমুখি হলে আমরা পিছু হটতে বলি। পরে কে বা কারা ঢিল ছোড়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর তারা হামলা চালিয়েছে। আমরা চাই রাজনীতি শান্তিপূর্ণ ধারায় চলুক। এ ঘটনায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এনামুল হক বলেন, তাঁদের সদর উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব মো. হেলাল উদ্দিনকে বিজেপির নেতারা কটাক্ষ করায় তাঁরা আজ প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সকাল ১০টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি বাংলা স্কুল মোড়ে গেলে দুটি বোমা বিস্ফোরণ ও গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে বিজেপির কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এরপরই সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বিএনপির অন্তত ২৫ জন আহত হন

সম্প্রতি ভোলার বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এর প্রতিবাদে আজ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করে বিজেপি। দলটির জেলার সাধারণ সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, বিজেপির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে দলীয় কার্যালয়ে সভা করছিলেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এতে তাঁদের ২৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে শেরেবাংলা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সকালে তাদের অঙ্গসংগঠনের একটি কর্মসূচি ও মিছিল ছিল। মিছিল শেষে তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন। কিছুক্ষণ পর বিএনপির একটি মিছিল এসে তাদের ধাওয়া দেয়, ইটপাটকেল ছোড়ে ও মারধর করে। এতে তাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হন।

ভোলা ২৫০ শয্যা  সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত তাদের হাসপাতালে উভয় পক্ষের ৪৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আটজনকে বরিশালে রেফার্ড করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন এখন ভর্তি রয়েছেন।

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক জানান,  পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় কাজ করছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক রাজনৈতিক ব্যক্তি জানান এই সংঘর্ষের নেপথ্যে রয়েছে ভোলা-১ সদর আসনে বিএনপির মনোনয়ন । এ আসন থেকে জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্জ গোলাম নবী আলমগীর ও বাংলাদেশ জাতিয় পার্টি ( বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ মনোনয়ন প্রত্যাশি ।

বর্তমানে শহরের নতুন বাজার বিজেপি অফিসের সামনে ও মহাজনপট্টি জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সামনে সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, রেব সহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শহরে এখনো থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ