আরিয়ান আরিফ/মীর তানু,অমৃতালোক
ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদ্রাসার মোহাদ্দিস, ভোলা সদর উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের খতিব ও ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আমিনুল হক নোমানী (৪৪) হত্যাকাণ্ডের সাতদিন পর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে ভোলার পুলিশ বিভাগ। হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারই ছেলে মো. রেদেয়ানুল হক (১৭)। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার তজুমদ্দিন উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ভোলার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শরীফুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা ২০ মিনিটে ৯৯৯–এর মাধ্যমে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ও ডিবির টিম ঘটনাস্থলে যায়। গুরুতর আহত নোমানী হুজুরকে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরদিন নিহতের স্ত্রী হালিমা বিনতে কামাল বাদী হয়ে ভোলা সদর থানায় হত্যা মামলা (নং ১৩) তাং ৭/৯/২৫ ধারা ৩০২/৩৪) দায়ের করেন।
তদন্তের এক পর্যায়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের ছেলে রেদওয়ান হক কে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে সে জিজ্ঞাসাবাদে পিতাকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং তার দেখানো মতে বাড়ির পেছনের খাল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।
মামলাটি বর্তমানে ভোলা জেলা গোয়েন্দা শাখার সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলে তদন্তাধীন রয়েছে।
এসপি শরীফুল হক জানান, হত্যার ‘কিলিং মিশনে’ রেদেয়ানুল হক একাই অংশ নিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাবার কড়া শাসন মানতে না পেরে ক্ষোভে তিনি বাবাকে খুন করেন। এ জন্য ইউটিউবে বিভিন্ন ক্রাইম মুভি দেখে দক্ষতা অর্জন করেন কিভাবে আঘাত করলে মৃত্যু নিশ্চিত হবে তা শিখে নেন।
দুই মাস আগে থেকেই বাবাকে হত্যার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন পুত্র। এরপর হত্যার উদ্দেশে ছুরি, টি-শার্ট, কেপ এবং হাতঘড়ি সংগ্রহ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাবার শাসনে ক্ষোভ থেকে একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন রেদেয়ানুল। তবে ব্যর্থ হওয়ার পর বাবাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে থাকেন এবং গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঘরে একা পেয়ে বাবাকে খুন করেন। তবে এ হত্যাকাণ্ডে ছেলের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, সেটি ও তদন্ত করছে পুলিশ।
এসপি শরীফুল হক আরও জানান, ঘাতক সন্তান নিজ বাড়িতে থাকতেন না,বাবার সঙ্গে রাগ করে মামার বাড়িতে থাকতেন। তবে পড়াশোনা করতেন বাবার মাদরাসায়।#






