৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ ■ ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের মানুষ এত বড় খুনি,ফ্যাসিস্টকে আর দেশের রাজনীতিতে নৈতিক ও আইনগতভাবে কোন অধিকার দেবে না

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

মোঃ আরিয়ান আরিফ, অমৃতালোক :

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন,  ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে ভারতে পালিয়ে গেছেন। যেখানের মাল সেখানে চলে গেছে। এখন শোনা যাচ্ছে তিনি নাকি আবার বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে চান। আরে, ঢুকে পড়ে দেখেন জনগণ আপনার কী করে। ৫ আগস্ট হেলিকপ্টারে পালিয়ে না গেলে গণভবনে লাখ লাখ মানুষ যেভাবে প্রবেশ করছিল, আপনার যে কী অবস্থা হতো, এ দেশের জনগণ-জাতি ও দুনিয়ায় দেখতে পেত। বাংলাদেশের মানুষ এত বড় খুনি, এত বড় ফ্যাসিস্ট কে আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নৈতিকভাবে, আইনগতভাবে কোন অধিকার দেবে না।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে হামলা করা হয়। তারা হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করেছিল। গুলি করা সেই লাশগুলো সাভার আশুলিয়া নিয়ে ট্রাকের ওপরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে তারা। ওরা মানবতা বিরোধী অপরাধী।নির্বাচনের আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করতে হবে। আমরা তাদের কাছে ঋণী। তাদের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। আজকে যেই বাংলাদেশ হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে শহীদরাও সেই বাংলাদেশে চেয়েছিল। সুতরাং সেই বিচার হতেই হবে। জুডিশিয়াল ক্যু করে জামায়াত ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। সেই জুডিশিয়াল ক্যুর সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

শেখ হাসিনার তৈরি এই ট্রাইব্যুনালে তার বিচার হবে। মিথ্যা সাজানো মামলা দিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। তোমার তৈরি ট্রাইব্যুনালেই তোমার বিচার চলছে। ট্রাইব্যুনালে ২০০ অধিক মামলা হয়েছে।দুই হাজারের অধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে। এ ছাড়া ৪০ হাজার ছাত্র-জনতা আহত হয়েছে। জুলাইয়ে গণ-অভ্যুত্থান রক্ত দিয়ে আমাদের ঋণী করে গেছে তাদের ঋণ  বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামীতে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। যাতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা যায়। তারপর আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ কল্যাণ রাষ্ট্র হবে, যার ভিত্তি হবে আল কোরআন। গত তিনটি নির্বাচনে কেউ ভোট দিতে পারিনি। আমাদের ভোট আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ দিয়ে দিত। তারা আমাদের রাস্তা থেকেই বাড়িতে পাঠিয়ে দিত।জামায়াতে ইসলামী দেশের স্বার্থে সংস্কারের প্রত্যাশী। দেশের জনগণ দ্রুত সংস্কার করে স্বল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের প্রত্যাশা করে।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ভোলা জেলা আমির মাস্টার জাকির হোসাইনের সভাপতিত্বে জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হারুনুর রশিদের সঞ্চালনায় কর্মী সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি  কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, মজলিসে শূরার সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাহিত্য সংস্কৃতি ও কেন্দ্রীয় গবেষণা বিভাগের সদস্য সচিব, আ জ ম ওবায়েদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য এ কে এম ফখরুদ্দিন খান রাযী,

সাবেক জেলা আমির কেন্দ্রীয় গবেষণা বিভাগের সদস্য মাওলানা ফজলুল করিম, সাবেক জেলা আমির অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও ঢাকাস্থ চরফ্যাশন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি মো: মহিবুল্লাহ, জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, জেলা প্রচার সেক্রেটারি অধ্যাপক আমীর হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরেরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি, মু. হেলাল উদ্দিন রুবেল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি, হাফেজ ইসমাঈল হোসেন, চরফ্যাশন উপজেলা আমির অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসাইন, ভোলা পৌরসভা আমির মো: জামাল উদ্দিন, সদর উপজেলা আমির মাওলানা কামাল হোসেন, লালমোহন উপজেলা আমির মাওলানা আক্তার উল্লাহ, বোরহান উদ্দিন উপজেলা আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমান, দৌলতখান উপজেলা আমির হাসান তারেক স্বপন হাওলাদার, তজুমদ্দিন উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রব, মনপুরা উপজেলা আমির মাওলানা আমিমুল ইহসান জসিম, ছাত্র শিবিরের ভোলা শহর সভাপতি, আব্দুল্লাহ আল আমিন, জেলা সভাপতি মো: জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আরও  বলেন, অগ্রধিকার ভিত্তিতে ভোলার ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ দিতে হবে। ভোলা-বরিশাল সেতু বাস্তবায়ন করতে হবে।এই এলাকার মানুষ এখন উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। তাই এই জেলার মানুষের আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এখানে অবিলম্বে মেডিকেল কলেজ স্থাপন জরুরি ।
কর্মী সম্মেলন উপলক্ষে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল করে নেতা কর্মীরা সম্মেলন স্থলে সমাবেত হয়। সম্মেলন শুরুর আগেই কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠ। প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই মন্তব্য করেছেন আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে ভোলায় জামায়াতে ইসলামী কার্যত জানান দিয়েছে তাদের অবস্থান।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ