১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ ■ ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খাতা চ্যালেঞ্জ করে সোয়া ২ লাখ আবেদন উত্তরপত্র মূল্যায়নে গোপনীয়তা লঙ্ঘনে জড়িত অনেক শিক্ষক

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিউজ ডেস্ক,অমৃতালোক :

চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে গোপনীয়তা লঙ্ঘনে জড়িত অনেক শিক্ষক! খাতার ওএমআর অংশ বা ‘বৃত্ত’ পূরণের কাজ টিকটকার শিক্ষার্থীদের দিয়ে করিয়েছেন তারা। বিষয়টি সামনে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রায় ১০টি ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ নিয়ে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আট পরীক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তদন্তে আরো বাড়তে পারে অভিযুক্তের সংখ্যা। এদিকে স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন ও স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন এবং মোট নম্বরের যোগফল বের করে আসছেন একশ্রেণির শিক্ষক। এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরীক্ষার খাতা দেখতে পাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেই বিষয়ে গত শনিবার পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকদের আবার সতর্ক করে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বলেছে, স্ত্রী-সন্তান-শিক্ষার্থী বা অন্য কাউকে দিয়ে খাতা মূল্যায়ন বা বৃত্ত ভরাট করানো দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ এ ধরনের কাজ করলে বা করার চেষ্টা করলে তার দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এর আগে গত ৫ মে প্রথম দফায় এ বিষয়ে পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকদের সতর্ক করা হয়।
এবার এসএসসি ও সমমানে ৬ লাখ ৬৬০ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। বিগত বছরের তুলনায় এটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। সাধারণত প্রতি বছর ৩ থেকে ৪ লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। তাহলে এ বছর এই বিপুলসংখ্যক ফেল কোথা থেকে এলো? অনেক শিক্ষার্থীর রেজাল্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কেউ কেউ ১১ বিষয়ে এ প্লাস পেয়েছে। অথচ একটি বিষয়ে ফেল করেছে, যা স্পষ্টভাবে অস্বাভাবিক। শিক্ষার্থী টিকটকার দিয়ে এসএসসির খাতা দেখানো হয়েছে বলে এবার ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে—এই অভিযোগ অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের। এর প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজারে অবস্থিত ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করে ফেল করা একদল শিক্ষার্থী। বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীরা আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবিরের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, এ বছর সাড়ে ৬ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন। টিকটকাররা পরীক্ষার খাতা দেখায় এ দুরবস্থা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। একাধিক পরীক্ষার্থী বলেন, আমাদের খাতা যারা দেখে তারা টিকটকার। আমাদের খাতা দেখে তা নিয়ে রিলস বানিয়ে তারা টিকটকে আপলোড করে। টিকটকে ভাইরাল হওয়া খাতা দেখার ভিডিওগুলো মোবাইলে দেখিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। এর আগে ১৪ ও ১৫ জুলাইও ফেল করা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ঢাকা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এবার সোয়া ২ লাখ শিক্ষার্থী খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে শোকজ করা চিঠিগুলোতে বলা হয়, ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের দিয়ে বৃত্ত ভরাট করানো হয়। এসব ভিডিও বা স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়। এ কার্যকলাপের ফলে শিক্ষা বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীদের মনে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষার উত্তরপত্র প্রধান পরীক্ষক বা পরীক্ষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি, শিক্ষার্থী বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে দিয়ে বৃত্ত ভরাট বা পূরণ করানো বা মূল্যায়ন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এছাড়া এ অপরাধের জন্য শোকজ করা পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কেনো বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার জবাব পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বরাবর পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। অভিযুক্তরা হলেন—ঢাকার রোকেয়া আহসান কলেজের মুরছানা আক্তার, তার পরীক্ষিত বিষয় ছিল এইচএসসি ইংরেজি ২য় পত্র। গাজীপুরের ভাষাশহিদ আব্দুল জব্বার আনসার ভিডিপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. রাকিবুল হাসান, তার পরীক্ষিত বিষয় ছিল এইচএসসি বাংলা ২য় পত্র। ঢাকার হাজি ইউনুছ আলী কলেজের মো. জাকির হোসাইন, তার পরীক্ষিত বিষয় ছিল এইচএসসি বাংলা ২য় পত্র। নরসিংদী বারৈচা কলেজের মধুছন্দা লিপি, তার পরীক্ষিত বিষয় ছিল এইচএসসি বাংলা ১ম পত্র। ঢাকার মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের মহসীন আলামীন, তার পরীক্ষিত বিষয় ছিল এসএসসি উচ্চতর গণিত।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ