নিউজ ডেস্ক,অমৃতালোক :
চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে গোপনীয়তা লঙ্ঘনে জড়িত অনেক শিক্ষক! খাতার ওএমআর অংশ বা ‘বৃত্ত’ পূরণের কাজ টিকটকার শিক্ষার্থীদের দিয়ে করিয়েছেন তারা। বিষয়টি সামনে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রায় ১০টি ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ নিয়ে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আট পরীক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তদন্তে আরো বাড়তে পারে অভিযুক্তের সংখ্যা। এদিকে স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন ও স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন এবং মোট নম্বরের যোগফল বের করে আসছেন একশ্রেণির শিক্ষক। এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে শোকজ করা চিঠিগুলোতে বলা হয়, ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের দিয়ে বৃত্ত ভরাট করানো হয়। এসব ভিডিও বা স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়। এ কার্যকলাপের ফলে শিক্ষা বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীদের মনে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষার উত্তরপত্র প্রধান পরীক্ষক বা পরীক্ষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি, শিক্ষার্থী বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে দিয়ে বৃত্ত ভরাট বা পূরণ করানো বা মূল্যায়ন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এছাড়া এ অপরাধের জন্য শোকজ করা পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে কেনো বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার জবাব পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বরাবর পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। অভিযুক্তরা হলেন—ঢাকার রোকেয়া আহসান কলেজের মুরছানা আক্তার, তার পরীক্ষিত বিষয় ছিল এইচএসসি ইংরেজি ২য় পত্র। গাজীপুরের ভাষাশহিদ আব্দুল জব্বার আনসার ভিডিপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. রাকিবুল হাসান, তার পরীক্ষিত বিষয় ছিল এইচএসসি বাংলা ২য় পত্র। ঢাকার হাজি ইউনুছ আলী কলেজের মো. জাকির হোসাইন, তার পরীক্ষিত বিষয় ছিল এইচএসসি বাংলা ২য় পত্র। নরসিংদী বারৈচা কলেজের মধুছন্দা লিপি, তার পরীক্ষিত বিষয় ছিল এইচএসসি বাংলা ১ম পত্র। ঢাকার মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের মহসীন আলামীন, তার পরীক্ষিত বিষয় ছিল এসএসসি উচ্চতর গণিত।






