নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কর্মকর্তাদের বেআইনি কোনো নির্দেশ দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা সম্মেলন ২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স এসোসিয়েশন এ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে চারজন নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সাচিব বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।
নির্বাচন কর্মকর্তাদের সিইসি উদ্দেশ্যে বলেন, নির্বাচনে আমরা আপনাদের নির্দেশনা দেবো, কিন্তু বেআইনি কোন নির্দেশনা আমরা দেবো না। কাউকে ফেভার করার জন্য নির্দেশনা দেবো না। আমাদের নির্দেশনা হবে সম্পূর্ণ আইন ও বিধি মোতাবেক। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে আপনারা কাজটা সঠিকভাবে করছেন, এটা যারা ইলেকশনের সঙ্গে জড়িত থাকবেন তাদের সবার জন্য প্রযোজ্য।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। আমি দেখেছি, ওখানে যতগুলো দেশের নেতার সঙ্গে উনি দেখা করেছেন। বক্তৃতা দিয়েছেন সেখানে বলেছেন, বাংলাদেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, এবং ঐতিহাসিক নির্বাচন হবে। সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণ আস্থা আছে বলেই কিন্তু তিনি প্রতিনিয়ত বলে আসছেন-আমি বাংলাদেশে একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন দেবো। তাই আমাদেরকে তার এই আস্থা ও বিশ্বাসটা ধরে রাখতে হবে। আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে- আমরা এটা পারি। আমি নিশ্চিত আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা একটা ভালো নির্বাচন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচন কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আমি গত বছরের ২রা মার্চ, পহেলা রমজানে আপনাদেরকে শপথ করিয়েছিলাম। আপনারা কিন্তু ওয়াদা করেছিলেন যে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন। প্রফেশনালি কাজ করবেন। আইন মেনে কাজ করবেন।
নির্বাচন কর্মকর্তাদের এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসির অন্য চার কমিশনারও। বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) শক্ত মেরুদণ্ড নিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, নিবিড়ভাবে খেয়াল করেন, দশ মাস ১০ দিনের এই কমিশন শক্ত সমর্থ মেরুদণ্ড নিয়েই কাজ করছে। কাজেই এই কমিশনের মেরুদণ্ড যদি শক্ত না হয়, কোনো কমিশনের মেরুদণ্ড কেমন হবে আমি জানি না। কমিশন কারো প্রতি অনুরাগ, বিরাগের বশবর্তী হয়ে করে নাই। করবে না। মালয়েশিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, অনেকেই বলছেন ৭০ শতাংশের মতো ভোট পড়তে পারে।
নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ বলেন, জেন্ডার বান্ধব নির্বাচন করব। নারীদের আমরা গুরুত্ব দেব৷ কেননা ওই একদিনই কেবল নারীরা গুরুত্ব পায়। সমান অধিকার পায়।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানের মাছউদ বলেন, সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচন করা ইসির ওপর আমানত। ইহকাল-পরকালে জবাবদিহিতা আছে। ভালো নির্বাচন করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নাই। কারণ আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।
ভোটার তালিকায় অনেক মৃত ভোটার আছেন উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এখনো তালিকায় অনেক মৃত ভোটার থেকে গেছেন। প্রতিদিনের জন্ম ও মৃত্যুর হার দেখলে এটা বোঝা যায়। তিনি নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য হালনাগাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ ছিল নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়া। নির্বাচন কমিশনের ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বাধার কথা উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, একটি হলো এআই প্রতিবন্ধকতা এবং অন্যটি প্রবাসীদের ভোটগ্রহণ। কমিশন এই বাধাকে দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করবেন। এ ছাড়া নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বদলি নিয়ে তদবির না করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসি সচিব। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মনির হোসেন। তিনি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচনী কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করতে প্রস্তুত আছেন বলে নির্বাচন কমিশনকে আশ্বস্ত করেছেন।






