এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ৯:২৫ অপরাহ্ণ

এনসিপির টার্গেট বিএনপির ‘অভিমানী’ ও ‘বঞ্চিত’ নেতাকর্মীরা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক,অমৃতালোক :

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে অভিনব ও কৌশলী পথে হাঁটছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই বিপ্লবের রাজপথ থেকে উঠে আসা নতুন এই দলটি এখন মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ‘অভিমানী’ ও ‘বঞ্চিত’ নেতাকর্মীদের দলে ভেড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

বিশেষ করে বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী অথচ বর্তমানে কোণঠাসা নেতাদের ওপর এনসিপির বিশেষ নজর থাকলেও, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নয়—এমন আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্যদের জন্যও দলটির দরজা খোলা রাখা হচ্ছে।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা এনসিপি বর্তমানে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের অংশ হিসেবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সরব রয়েছে। তবে রাজপথের পাশাপাশি এখন তাদের মূল মনোযোগ আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন বড় দলের ভেতরে বিরাজমান অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে সংগঠন গোছানোর কাজ চলছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসভবনে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর বৈঠক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। একইসঙ্গে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং যুবদলের সাবেক নেতা ইসহাক সরকারের মতো পরিচিত মুখগুলো এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর আলোচনা চলছে।

দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এই প্রক্রিয়াকে ‘দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতিতে এখনো যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদের এনসিপি স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। এই কৌশলের সমর্থনে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক মডেলের উদাহরণ টেনে বলেন, যোগ্য মানুষ যেখানেই অবমূল্যায়িত বা স্বজনপ্রীতির শিকার হচ্ছেন, এনসিপি তাদের জন্য একটি উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম হতে চায়। তার মতে, উপযুক্ত জায়গায় কাজ করার সুযোগ না পাওয়া আদর্শবান মানুষেরা এখন এই নতুন ধারার রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সাংগঠনিক বিস্তারের ক্ষেত্রে এনসিপি একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করার ঘোষণা দিয়েছে। দলের শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্যাসিবাদের সহযোগী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না—এমন যে কেউ এনসিপির আদর্শ ধারণ করলে তাদের দলে নেওয়া হতে পারে।

তবে এক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। সারজিস আলমের মতে, অতীতের নেতিবাচক রাজনীতির সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা নেই, তারা সাবেক আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ সদস্য হলেও এনসিপিতে যোগ দিতে বাধা নেই।

মূলত ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং রাজনৈতিক মধ্যপন্থাকে পুঁজি করেই এনসিপি বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজেদের পতাকাতলে নিয়ে আসছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, বড় দলগুলোর ভেতরকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নেতৃত্বের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা নির্বাচনে তারা চমক দেখাতে সক্ষম হবে। এই কৌশলগত মেরুকরণ দেশের স্থানীয় রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলছে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ