মার্চ ২৮, ২০২৬ ৭:০৬ অপরাহ্ণ

ঈদ উদযাপনে সঙ্গী হোক প্রযুক্তি

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
ছবি-অনলাইন

অল্প কিছুদিন পর ঈদুল ফিতর। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন অনেকে। যাত্রা সহজ করতে ও ঈদ আরো আনন্দময় করতে প্রযুক্তি কাজে লাগানোর উপায় –

অনলাইন বুকিং

ঈদে বাড়ি ফেরার জন্য বাস, ট্রেন ও প্লেনের টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া সহজ করতে রয়েছে বেশ কিছু অনলাইন সেবা। বিডিটিকিট, সহজ, বাসবিডির মতো টিকেটিং প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গ্রিনলাইন, দেশ ট্রাভেলসের মতো পরিবহনসেবার রয়েছে নিজস্ব অনলাইন বুকিং সেবা। ট্রেনের টিকিটের জন্য রয়েছে রেলসেবা ওয়েবসাইট ও অ্যাপ, প্লেনের টিকিটের জন্য রয়েছে শেয়ারট্রিপ ও গোজায়ানের মতো অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি। এয়ারলাইনগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট, অ্যাপও আছে।

গাড়ি ভাড়া করেও ঈদে বাড়ি ফেরেন অনেকে। গাড়িবুক, গাড়িভাড়া, হক রেন্ট-এ-কার, সেবা, পাঠাও-উবারের মতো বিভিন্ন অনলাইন সেবার মাধ্যমে গাড়ি ভাড়া করা যায়।
রাস্তাঘাট চেনার জন্য গুগল ম্যাপস বা ওপেনস্ট্রিট ম্যাপের মতো অ্যাপগুলো খুবই কাজের। গন্তব্যের পথ খুঁজে বের করার পাশাপাশি আশপাশের রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, হাসপাতাল ও লোকাল বাসের সময়সূচির জন্যও ম্যাপস বেশ কাজের।

যাত্রা শুরুর আগে অবশ্যই অফলাইন ম্যাপ ডাউনলোড করে নেওয়া উচিত। নইলে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে জরুরি মুহূর্তে ম্যাপ কাজ না-ও করতে পারে।

যাত্রার অনুষঙ্গ

গান শুনতে শুনতে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন অনেকেই। যাঁদের গান শোনার অভ্যাস নেই, তাঁরাও সঙ্গে হেডফোন রাখতে পারেন।

গণপরিবহনের কোলাহল দ্রুত কানের ক্ষতি করতে পারে। তাই নয়েজ ক্যান্সেলেশন ফিচারসহ হেডফোন ব্যবহার করলে শ্রবণশক্তি সুরক্ষিত থাকবে। যাত্রাপথে গানের বদলে পডকাস্ট বা ধর্মীয় বাণী শুনেও সময় পার করা যায়। নয়েজ ক্যান্সেলেশন ফিচারসহ হেডফোনের মূল্য দুই হাজার টাকা থেকে শুরু।
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট চার্জ করার জন্য সঙ্গে মানসম্মত পাওয়ার ব্যাংক রাখা যেতে পারে।

বাজারে বিভিন্ন মূল্য ও ধারণক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক রয়েছে। এখন বেশির ভাগ অ্যানড্রয়েড ফোনের ব্যাটারির ধারণক্ষমতা চার হাজার এমএএইচের বেশি, তাই ওজন বা আকৃতি নিয়ে সমস্যা না হলে অন্তত ২০ বা ৩০ হাজার এমএএইচ ধারণক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক কেনা উচিত। আইফোন ও তারহীন চার্জিং ফিচারযুক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা ওয়্যারলেস চার্জিং পাওয়ার ব্যাংক কিনতে পারেন, সে ক্ষেত্রে তারের ঝামেলা এড়ানো যাবে। পাওয়ার ব্যাংকে দ্রুত চার্জিং ফিচার থাকা জরুরি। আইফোনের জন্য অন্তত ১৮ ওয়াট, অ্যানড্রয়েডের জন্য অন্তত ৪৫ ওয়াট এবং ল্যাপটপের জন্য অন্তত ৬৫ ওয়াট আউটপুটের পাওয়ার ব্যাংক কেনা উচিত।
পাওয়ার ব্যাংকের পাশাপাশি ছোট কিন্তু উচ্চ আউটপুটের জিএএন প্রযুক্তির চার্জারও সঙ্গে রাখা যেতে পারে। হাতের তালুতে এঁটে যায় এমন ক্ষুদ্রাকৃতির চার্জারেও এখন অহরহ ১০০ ওয়াটেরও বেশি আউটপুট দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে এক চার্জারেই ল্যাপটপ, ফোন ও ট‌্যাবলেট চার্জ করা যাবে, একাধিক চার্জার বহন করতে হবে না।

ডিভাইস রক্ষা জরুরি

অসাবধানতায় শখের স্মার্টফোন বা ঘড়িতে আঁচড় লাগলে বা ভেঙে গেলে ঈদ আনন্দ মাটি হয়ে যেতে পারে। তাই মানসম্মত কেস ও স্ক্রিন প্রোটেক্টর কেনা জরুরি। অনেকেই বছরের পর বছর একই কেস ব্যবহার করেন। ঈদে নিজের জন্য নতুন জামার পাশাপাশি হাতের ফোনটির জন্যও কিনতে পারেন নতুন কেস। হেডফোনের যত্নেও রয়েছে ক্যারিং কেস ও পাউচ। অনেকে ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট বহনের জন্য বিশেষায়িত ব্যাগ ব্যবহার করেন না। ফলাফল, বাস বা ট্রেনে ভিড়ের মধ্যে চাপ লেগে ডিভাইসটি হয় ক্ষতির শিকার। চার্জার ও কেবল হারিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে অহরহ। তাই ঈদযাত্রার আগে মানসম্মত ব্যাকপ্যাক ও ট্রাভেল পাউচ কেনা উচিত। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে রেহাই মিলবে। সম্ভব হলে ব্যাকপ্যাক ও পাউচ কেনা উচিত ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট। এতে পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।

নামিয়ে রাখুন পছন্দের মিডিয়া

দীর্ঘ যাত্রায় অনেকেই গান শোনেন, সিরিজ বা মুভি দেখেন। ঈদের ছুটিতে দেখার জন্য মুভি ও সিরিজ জমান কেউ কেউ। স্ট্রিমিংয়ের যুগে অনেকেই আর সেসব ডাউনলোড করেন না। মনে রাখা জরুরি, হাইওয়ে, নদীপথ বা রেলপথে সব সময় উচ্চগতির ইন্টারনেট না-ও থাকতে পারে। মফস্বল বা গ্রামের ইন্টারনেটেও স্ট্রিমিং করা সমস্যাজনক হতে পারে। সে জন্য আগেভাগেই সিরিজ, মুভি ও গান ডাউনলোড করে রাখুন। জনপ্রিয় স্ট্রিমিং অ্যাপগুলোতে ডাউনলোড করার অপশন আছে। স্পটিফাই ও ইউটিউবেও ডাউনলোড অপশন আছে।

পরিমিত ব্যবহার

তরুণদের মধ্যে ঈদের ছুটিতে টানা সিরিজ বা সিনেমা দেখা ও গেম খেলার প্রবণতা রয়েছে। অনেকে আবার ব্যস্ত থাকেন ছবি তোলা তার ভিডিও তৈরিতে। ঈদের ছুটিতে চেষ্টা করতে হবে ডিজিটাল দুনিয়া থেকে সরে আসার। আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে সময় কাটানো বেশি জরুরি। স্ক্রিনে তাকিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করলে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির পাশাপাশি শারীরিক ক্ষতিরও আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর

বিভাগীয় সংবাদ